শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৪২
তিন বছরের কম বয়সী শিশুর বিকাশে কোন খেলাগুলো সবচেয়ে উপকারী?

শিশুর প্রথম তিন বছর তার শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে বয়সোপযোগী খেলার মাধ্যমে তার ইন্দ্রিয়, চলনদক্ষতা, কল্পনাশক্তি ও শেখার ক্ষমতা দ্রুত বিকশিত হয়। শিশু-মনোবিজ্ঞানের আলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরেছেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মজিদ হেম্মাতি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মজিদ হেম্মাতি বলেন— শিশু-মনোবিজ্ঞানে তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য মূলত দুই ধরনের খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রথমটি হলো অনুশীলনধর্মী খেলা, যা সাধারণত এক বছর বয়স থেকে শুরু হয়। এ ধরনের খেলা মূলত শিশুর ইন্দ্রিয় ও নড়াচড়ার বিকাশকে কেন্দ্র করে। এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য বা কঠোর নিয়ম থাকে না।

পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয় কল্পনাভিত্তিক, প্রতীকী বা অভিনয়ধর্মী খেলা। অর্থাৎ, এক বছর বয়স থেকে অনুশীলনধর্মী খেলার মাধ্যমে শিশুকে ধীরে ধীরে তিন বছর বয়সে কল্পনাভিত্তিক ও প্রতীকী খেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

অনুশীলনধর্মী খেলা কেমন?

​​​​​​উদাহরণস্বরূপ, পাঁচ বা ছয় মাস বয়সী একটি শিশু তার খাটের ওপরে ঝুলিয়ে রাখা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে।

আট বা নয় মাস বয়সে, যখন শিশু হামাগুড়ি দিতে শেখে, তখন তার সামনে একটি বল রাখা যেতে পারে, যাতে সে সেটির দিকে এগিয়ে যায় এবং তার চলাফেরার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া শিশুর হাতে রঙিন ব্লক বা ঘনক দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে সেগুলো স্পর্শ করে, নাড়াচাড়া করে এবং প্রয়োজনে মুখেও নেয়। কারণ এ পর্যায়ে শিশুরা মুখের মাধ্যমেও তাদের চারপাশের জগতকে অন্বেষণ করে।

তবে বাবা-মাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, যেন ছোট আকারের কোনো বস্তু শিশুর নাগালের মধ্যে না থাকে। কারণ সে সেগুলো মুখে দিয়ে ফেলতে পারে, যা তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

এভাবেই অনুশীলনধর্মী খেলার সূচনা হয়। বাবা-মা উভয়েই এ ধরনের খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।

স্পর্শভিত্তিক যোগাযোগ ও ইন্দ্রিয়নির্ভর খেলা
যেহেতু এ পর্যায়ে শিশুর ইন্দ্রিয় ও নড়াচড়ার বিকাশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই স্পর্শভিত্তিক যোগাযোগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শিশুকে ম্যাসাজ করা, সুড়সুড়ি দেওয়া কিংবা স্নেহভরে আদর করা—এসবও এক ধরনের খেলা।

আমাদের ইসলামি বর্ণনায় শিশুদের স্নেহভরে আদর করার যে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক শিশু-মনোবিজ্ঞানে আলোচিত শিশুর ম্যাসাজের ধারণার সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।

লুকোচুরি খেলা ও 'বস্তুর স্থায়িত্ব' (Object Permanence)
আট বা নয় মাস বয়স থেকে শিশুর সঙ্গে লুকোচুরি (Peekaboo) খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এই খেলা শিশুকে দ্রুত 'বস্তুর স্থায়িত্ব' (Object Permanence) ধারণা অর্জনে সাহায্য করে।

এ পর্যায়ে শিশু মনে করে, কোনো বস্তু তার চোখের আড়ালে চলে গেলে সেটি আর অস্তিত্বে নেই। তাই সে সেটিকে খোঁজার চেষ্টা করে না।

কিন্তু লুকোচুরি খেলার মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে, চোখের সামনে না থাকলেও বস্তুটি বিদ্যমান থাকে।

যখন শিশু এ ধারণা অর্জন করে, তখন তার সামনে থাকা একটি বল লুকিয়ে ফেললে সে সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।

কল্পনাভিত্তিক বা অভিনয়ধর্মী খেলা
কল্পনাভিত্তিক বা অভিনয়ধর্মী খেলায় শিশুদের জন্য পুতুল ও চরিত্রভিত্তিক খেলনা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ধরনের খেলা তাদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং প্রতীকী চিন্তাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha